মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২০২৫ সালের জন্য চার ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত, সেবায় অনন্য নজির এবং উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত এসআই আবুল কালাম আজাদ শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার আরশীনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। গত দুই বছর ধরে মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দায়িত্ব পালন করছেন।
মুন্সিগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আবুল কালাম আজাদ। এর আগে ক্লু-লেস ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন, সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননাও পান তিনি।
তার আলোচিত অভিযানের মধ্যে অন্যতম ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া একটি চক্রকে গ্রেপ্তার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিবির একটি দলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ডিবির এসআই আবুল কালাম আজাদ নেতৃত্বে ছিলেন।
এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানেও তার নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। চলতি বছরের ৪ মার্চ পদ্মা সেতু উত্তর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ওই অভিযানে এসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অংশ নেয়।
বিপিএম পদকের জন্য নির্বাচিত হওয়ার খবরে এসআই আবুল কালাম আজাদকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। তার এই স্বীকৃতিতে জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি তার দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জে অপরাধ দমন, অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী অন্য পুলিশ সদস্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।