শামসুল ইসলাম সনেট: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সৌদি প্রবাসী হৃদয় হোসেন (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে হৃদয় নিজের মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তার পরিবার ও ভ্রমণসঙ্গীদের দাবি, নিজের গতি নয়, পেছন থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন হৃদয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় হৃদয় স্বাভাবিক গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। পেছন থেকে একটি রাইডার গ্রুপ এসে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হৃদয়ের বোন মিতু বলেন, সব মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে, আমার ভাই গতির কারণে মারা গেছে। এটা সত্য নয়। আমার বাবা হারা দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিল হৃদয়। এলাকায় নম্র-ভদ্র মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিল। তার দেড় বছরের একটি শিশু কন্যা ও স্ত্রী রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার কিছু উশৃঙ্খল বাইকার এই সড়কে রেস করে। তাদের বেপরোয়া গতির কারণেই তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
হৃদয়ের ভ্রমণসঙ্গী ইয়াসিন জানান, ঘটনার সময় তারা প্রায় ১০ বন্ধু মোটরসাইকেলে করে মাওয়া থেকে ঢাকার দিকে ফিরছিলেন। মাওয়া ঘাটে ইলিশ খেয়ে তারা স্বাভাবিক গতিতে আসছিলেন। কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে পেছন থেকে একটি রাইডার গ্রুপ এসে হৃদয়ের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আরেক ভ্রমণসঙ্গীর দাবি, পেছন থেকে আসা ওই মোটরসাইকেলগুলোর গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটারের বেশি।
দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে চালক হৃদয় ঘটনাস্থলেই নিহত এবং আরোহী সাজ্জাদ (২৪) আহত হন।
তবে পরিবারের দাবি, হৃদয় নিজে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, পেছন থেকে আসা বেপরোয়া গতির বাইকারদের ধাক্কাতেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত হৃদয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রসুলপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। প্রায় চার মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। আগামী মাসের ৩ তারিখ তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যাসন্তান রেখে গেছেন হৃদয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। সে অন্য একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারা গেছে। আমরা তদন্ত করে বেপরোয়া ওই বাইকারদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন