কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: কৈশোরের আবেগ, পরিবারের শাসন আর একটি মুহূর্তের অভিমান। সেই অভিমানই কেড়ে নিল নবম শ্রেণির ছাত্রী ফারহানা ফাতেমের (১৪) জীবন। সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ধলেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার হলো তার মরদেহ। ঘটনাটি ঘিরে শোক নেমে এসেছে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের মিঠাপুর এলাকায়।
নিহত ফারহানা ফাতেম মিঠাপুর এলাকার ফারুক মোল্লার মেয়ে এবং স্থানীয় কলাতিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ মে সন্ধ্যায় এক সহপাঠী ছেলের সঙ্গে বাইরে ঘুরে দেরিতে বাড়ি ফেরে সে। বিষয়টি নিয়ে তার মা বকাঝকা করেন। এমনকি কিছু সময়ের জন্য তাকে ঘরে ঢুকতেও দেননি। অভিমান করে বাড়ির সামনে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান করার পর সেখান থেকে চলে যায় ফাতেমা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন রাগ করে হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও সে ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এদিকে নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূর ধলেশ্বরী নদীর ভেন্ডিঘাট এলাকা থেকে তার বোরকার ওড়না ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তখন থেকেই পরিবারের সদস্যদের মনে আশঙ্কা জন্ম নেয়, হয়তো আর বেঁচে নেই ফাতেমা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় সাত থেকে আট কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান স্বজনরা। পরে মরদেহটি ফারহানা ফাতেমের বলে শনাক্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজ জানান, সকাল ১০টার দিকে নদীতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকায় মাইকিং করতে থাকা ফাতেমার স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের স্বজন আব্দুল কাইয়ুম জানান, ফাতেমার এক সহপাঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে আপত্তি ছিল। ঘটনার দিন মায়ের বকাঝকার পর সে অভিমান করে চলে যায়। পরে আর ফিরে আসেনি।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি মৃত্যুর নয়, বরং পরিবার ও সন্তানের মধ্যে দূরত্ব, অভিমান এবং কৈশোরের আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার একটি নির্মম উদাহরণ। সামান্য একটি ঘটনার পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে, ফাতেমার মৃত্যু যেন সেই বার্তাই দিয়ে গেল।
প্রতিবেশী আমেনা বলেন, আজকের এই ঘটনা পুরো এলাকাকে নাড়া দিয়েছে। একটি মেয়ে সামান্য অভিমানে নিজের জীবন শেষ করে দেবে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি।
পাড়াগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুদ্দীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে নিখোঁজের ঘটনায় কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জামিলুল হক জানান, বিষয়টি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবারের লোকজন লাশ সনাক্ত করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন