বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া ইউনিয়নের নতুন চর খাড়াকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফলবরু ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে ও মৃত লাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। অভিযুক্ত সিরাজুল একই এলাকার মৃত মতিনের ছেলে।
নিহতের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস জানান, তাঁর মা বোনের বাড়ির পাশেই ছোট ভাই ইদ্রিসের উঠানে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় সিরাজুল তাঁর মায়ের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মা তাঁকে চিনে ফেলায় ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
প্রতিবেশী বহর বাইয়া জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বৃদ্ধার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন তাঁকে জানান, লাল গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তি বৃদ্ধাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। পরে সিরাজুলকে সন্দেহ হলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে রক্তমাখা অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। প্রতিবেশী নাজমা জানান, তিনি হত্যাকাণ্ডটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ফুফু বাড়ির উঠানে ঝাড়ু দেওয়ার সময় গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দিলে ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কেটে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
পরে খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত সিরাজুলকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত রুহুল কুদ্দুস।
মন্তব্য করুন