রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। গ্যারেজে থাকা চালকরা জানান, তারা গাড়ি রেখে দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় একের পর এক অটোরিকশা দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। কেউ কোনো গাড়ি বের করার সুযোগ পাননি।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণের কাজ শেষ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. জাহিদ জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত খবর পেলেও যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। স্থানীয়দের দাবি, আরও দ্রুত পৌঁছাতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারত।
সওজের অফিস সহায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে স্থানীয় মিন্টু মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েকজন প্রভাবশালী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গ্যারেজটি পরিচালনা করে আসছিলেন। একাধিকবার নিষেধ করা হলেও গ্যারেজটি সরানো হয়নি। সেখানে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও সরকারি বিদ্যুতের সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সওজের গাড়িচালক নাসির বলেন, এটি নিয়ে একই স্থানে তৃতীয়বারের মতো আগুন লাগার ঘটনা ঘটলো। অতীতের ঘটনাগুলো থেকেও শিক্ষা নেওয়া হয়নি। বারবার সতর্ক করার পরও অবৈধ গ্যারেজটি বন্ধ করা যায়নি।
ফুল বিক্রেতা নিয়ামত উল্লাহ বলেন, সব সঞ্চয় ও ঋণের টাকা দিয়ে একটি অটোরিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। প্রতিদিন ১৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে গ্যারেজে গাড়ি রাখতেন। আগুনে তার একমাত্র সম্বলটিও পুড়ে গেছে।
অটোরিকশা মালিক আবুল ব্যাপারী জানান, তার ৯টি অটোরিকশা আগুনে পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মালিক ও চালকদের দাবি, সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের পক্ষে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তারা ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।