ঢাকার সাভারের কলমা এলাকার একটি ঘটনায় আলোচনায় এসেছে এক মায়ের অমানবিক আচরণ। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্বের জেরে শিশুটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। লন্ডন প্রবাসী স্বামী সন্দেহের বশে ঘরের দেয়াল ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করলে সেখানে ধরা পড়ে আড়াই বছরের শিশুকে মারধরের ভয়াবহ দৃশ্য।
সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়, খেলনা নিয়ে খেলার বয়সী ছোট্ট শিশুটিকে নির্মমভাবে আঘাত করা হচ্ছে। শিশুটির কান্না, ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া শরীর এবং অসহায় চাহনি দেখে যে কেউ শিউরে উঠবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গড়ালে শিশুটিকে দাদির কোলে যেতে বলা হয়। এসময় শিশুটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই মায়ের কাছ থেকে দাদির কোলে চলে যায়। উপস্থিত অনেকেই মনে করেন, এই দৃশ্যই শিশুটির মানসিক অবস্থার বড় প্রমাণ। যে মায়ের বুকে নিরাপত্তা খোঁজার কথা, সেই মায়ের কাছ থেকেই সে ভয় পেতে শুরু করেছে।
আদালতে অভিযুক্ত মা দাবি করেন, তাকে ছাড়া সন্তান থাকতে পারবে না। একই সঙ্গে অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমাও চান তিনি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কখনো কি নির্যাতনের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুরা নিজেদের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। কোনো পারিবারিক বিরোধ, রাগ কিংবা প্রতিশোধের শিকার কখনোই একটি নিষ্পাপ শিশু হতে পারে না। (আরিফুর ইসলাম, একুশে টিভি)
মন্তব্য করুন