সোমবার (২৫ মে) দুপুর ২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা, কদমতলী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।
অভিযানে জনসাধারণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে সড়কের ওপর প্যান্ডেল নির্মাণ করে কোরবানির পশু রাখার দায়ে আগানগর পশুর হাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেনকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে এক ঘন্টার মধ্যে সড়ক থেকে পশু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে জনি টাওয়ার এলাকায় সড়কের ওপর প্যান্ডেল তৈরি করে গরু রাখার দায়ে জিনজিরা পশুর হাটের ইজারাদার মোজাদ্দেদ আলী বাবুকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়ক খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় আগানগর ও জিনজিরা পশুর হাটের ইজারাদাররা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাটে পানি জমে যাওয়ায় বেপারীরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে গরু রেখেছেন। পানি নেমে গেলে সব পশু হাটের ভেতরে নেওয়া হবে।
অভিযানে আরও দেখা যায়, ৩০ ফিট সড়ক দখল করে প্যান্ডেল নির্মাণ করে পশু রাখায় এক বাড়ির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর দায়ে এক ফল ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত কদমতলী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সড়কের পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেন এবং সড়কে যানবাহন পার্কিং না করতে চালকদের সতর্ক করেন।
কদমতলীর স্থানীয় ব্যাবসায়ী ফাইজুল করিম জানান, উপজেলা প্রশাসন বারবার অভিযান পরিচালনা করলেও দখলদাররা সচেতন হচ্ছে না। হকারদের কাছ থেকে যারা চাঁদা তোলে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. উমর ফারুক জানান, গত দুইদিন ধরে সংশ্লিষ্ট হাট ইজারাদারদের সড়ক থেকে গরু সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হলেও তারা তা মানেননি। ফলে জিনজিরা পশুর হাটের ইজারাদারকে দুই লাখ এবং আগানগর পশুর হাটের ইজারাদারকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক দখলের দায়ে এক বাড়ির মালিক ও এক ব্যবসায়ীকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়ক পরিষ্কার না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শামসুল ইসলাম সনেট
কেরানীগঞ্জ
০১৮১৮৬৬০৩৬১
মন্তব্য করুন