সেই রিক্সা চালক শামীম ভয়ংকর খুনি মেহেদী, গ্রামে যার দোতালা বাড়ি-মার্কেট

700
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকার কাওরানবাজারে ভাড়ায় চলা রিক্স চুরি হয়ে যাওয়ায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলো এক যুবক। গায়ের পোষাক, চুলের স্টাই, অবয়ব আর স্মার্ট কথাবার্তা শুনে বুঝার উপায় নেই সে রিক্সা চালক। তবে রিক্সা হারানো যুবকের মায়া কান্না পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে, এটি দৃষ্টি এড়ায়নি  বেসরকারি এক টেলিভিশন সাংবাদিকেরও। জনপ্রিয় সে টেলিভিশনে সংবাদ  প্রচারের পর সোশাল মিডিয়ায় তা মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।
 নিজের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, মায়ের অসুস্থতা, অল্প বয়সে বাবা হারানো আর শিক্ষিত আধুনিক যুবক হাওয়া সত্বেও মাক্স পড়ে রিক্সা চালিয়ে মায়ের চিকিৎসা করা যুবকের মায়ায় মজে দেশবাসী। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পপতি এমনকি  হত দরিদ্ররাও এগিয়ে আসে তার সাহায্যে।
 কেউ নিশ্চিত করে শামীদের একটি ভালো চাকরি, নিচ্ছেন পড়া লেখার দ্বায়িত্ব , কেউবা আবার কিনে দিচ্ছেন হারানো রিক্সা, কোন একজন ভার নিয়েছেন মায়ের সকল চিকিৎসার, এমনকি অনেক তরুণী দিচ্ছেন বিয়ের প্রস্তাবও, নিজেরাই বানিয়ে নিতে চান ডাক্তার। রিক্সা হারানোত নয় যেনো আলাদীনের চেরাগ ধরা দিয়েছে শামীমের হাতে। আসলে কে এই শামীম?
শামীমের পরিচয়
…..
জানা গেছে শামিমের আসল নাম মেহেদী হাসান, তার গ্রামের বাড়ী ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রোহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামে। তার পিতা মোতাহার হোসেন ২০১৬ সালে আপন নাতি শিশু আব্দুল্লাহ হত্যার দ্বায়ে র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যায়। শামিম ওরফে মেহেদীও একই মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
রিক্সা হারিয়ে শামিমের মায়া কান্না দেশের লাখ লাখ মানুষের মনে দাগ কাটলেও ব্যতিক্রম ছিলো তার নিজ গ্রাম
কেরানীগঞ্জের মুগারচর ও এর আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। তাদের অভিযোগ টিভিতে ভাইরাল হওয়া তার একটি ফন্দি। সে মিথ্যা কথা বলে দেশবাসীর সাথে প্রতারণা করেছে। গ্রামে তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও সে নিজেকে রিক্সা চালক সাজিয়েছে। তার মাকে নিয়েও সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। সে নিজে ১০ বছরের সাজা প্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়ে মিডিয়ায় কথা বলছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও  সংস্থা থেকে সাহায্য তুলছে অথচ তার সম্পদের অভাব নেই।
তারা বলছেন, শামিম(মেহেদী) ও তার পরিবারের লোকজন মিলে ২০১৬ সালে শিশু আব্দুল্লাহকে হত্যা করে একটি ড্রামের ভিতির রেখে তার পরিবার থেকে  মুক্তিপণ আদায় করে। সে মামলায় তার পিতা মোতাহার র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যায়। তাছাড়া একজনের ফাঁসি, অন্যান্য আসামিদের সাথে মেহেদীর ১০ বছরের জেল হয়।
পরে তার বয়স বিবেচনায় জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ভয়ানক মাদক ও চুরির কিশোর গেং তৈরি করে। এক পর্যায় এলাকার মানুষ খেপে গেলে সে এলাকা ছেড়ে শহরে পালিয়ে গিয়ে নতুন নাটকের ছক আঁকে। এখন চলছে তার অনুদান নামক নতুন ব্যবসা,এই নাটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন লোকজন কোন যাচাই-বাছাই  না করে খুনিকে সহায়তা দিয়ে আব্দুল্লার পরিবার ও  এলাকার মানুষকে নতুন করে আহত করছে বলে দাবি এলাকাবাসী ও আব্দুল্লার স্বজনদের।
তারা মনে করছেন যে শান্তনা মেহেদি হাসান শামীম ও তার পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে সেটা তাদের নির্মমতার শিকার আব্দুল্লার পরিবারকে দেওয়া উচিত ছিল।
নিহত আব্দুল্লার মা রিনা বেগম জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দেখে বহ কষ্টে সময় পার করছি। আমার ছেলের খুনিকে প্রশাসনসহ দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে সাহায্যের করছে। একজন খুনিকে দেশের মানুষ বাহবা দিচ্ছে অথচ সে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। সে দেশের মানুষের সাথে মিথ্যা বলে প্রতারণা করেছে। মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নাটক সাজিয়েছে। আমি দ্রুত তার গ্রেফতার চাই। শুধু ১০ বছরের সাজা কার্যকর নয়, এই প্রতারকের ফাঁসি চাই ।!
প্রতিবেশী মুকবুল হোসেন বলেন, গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি, পাশেই পাকা মার্কেট, মাঠেও রয়েছে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া অসংখ্য সম্পদ অথচ সে রিক্সা চালায়! এটা তার প্রতারণা ছাড়া কিছুই না। একজন খুনির জন্য দেশের মানুষ না যেনে সহানুভূতি দেখাচ্ছে, একজন সাজা প্রাপ্ত আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মানুষের সাথে প্রতারণা করছে, আইনকে বৃদ্ধাংগলী….. দেখাচ্ছে আর আব্দুল্লাহর পরিবার  কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
আব্দুল্লার নানি রাবিয়া বেগম বাংলা নিউজকে বলেন, একজন খুনিকে নিয়ে দেশের মানুষ পাগল হইছে, অথচ সে আমার আদরের ধন আব্দুল্লাহকে খুন করে আমাদের পাগল করছে। আমি মেহেদী (শামিম)সহ পরিবারের সকলের ফাঁসি চাই। তারা সকলে মিলে আমার নাতিকে মেরে ড্রামে ভরে রাখছে, আমিও তাদের মৃত্যু দেখে যেতে চাই।
এব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আর রশীদ বলেন, আমি এবিষয়ে একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় দেখেছি। জেনেছি সে একজন খুনি আসামি, জামিনে এসে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে শহরে গা ঢাকা দিয়ে আছে। তবে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।