সিরাজদীখানে ৭টিতে নৌকা, ৬টিতে স্বতন্ত্র, ১টিতে বিকল্পধারা জয়ী

169

নিজস্ব প্রতিবেদকঃচতুর্থ ধাপে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি গ্রুপ। এতে পুলিশ দখলকারীদের হটাতে ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এঘটনা ঘটলেও ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার বেলা পোনে ১১টার দিকে পাশ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ উপজেলার আওয়ামীলীগের সমর্থিত বহিরাগতরা সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের খাসকান্দি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। কিন্তু দখল চেষ্টাকারীরা কেন্দ্রে পাশেই একটি জায়গায় জড়ো হয়ে কেন্দ্রটি আবারো দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি পুলিশ তাদের হটাতে গেলে দখল চেষ্টাকারীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের একটি গাড়ীর সামনের গ্লাস ও বেনেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় পুলিশ তাদের হটাতে ৮ রাউন্ড ফাঁকা (রাবার বুলেট) গুলি বর্ষণ করে। তবে পুলিশের তৎপরাতায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই কেন্দ্রটিতে আবারো ভোট গ্রহন শুরু হয়।

অতিরিক্ত সহকারী (সিরাজদীখান সার্কেল)রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন,‘পুলিশ দখল চেষ্টাকারীদের হটাতে ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট উপর দিকে বর্ষন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাৎক্ষনিক ভাবেই ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসে এবং ভোট গ্রহন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়।’

এ ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৪৪টি ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতির কারনে সরব হয়ে উঠেছিল। উৎসব মুখর পরিবেশে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।
বেলা ১০ টার দিকে উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের খালপার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২শ নারী পুরুষ ভোটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। এসময় নতুন ভোট দিতে আসা এক কলেজ ছাত্র জানান,‘ নিজের প্রথম ভোটটি নিজে দিতে পারব কিনা এ নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার কারনে নিজে ভোট দিতে পেরেছি। এটা অন্য রকম অনুভুতি। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগের ৭ জন ও বিদ্রোহী ৫ জন , স্বতন্ত্র ১ জন এবং বিকল্প ধারার ১ জন । উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দিন শেষে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন চিত্রকোট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামছুল হুদা বাবুল,শেখরনগর ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেবব্রত সরকার টুটুল,রাজানগর ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রাথর্ী মজিবুর রহমান,কেয়াইন ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের মো.আশ্রাফ আলী শেখ, বাসাইল ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের সাইফুল ইসলাম যুবরাজ,লতব্দী ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী হাফেজ মো.ফজলু,রশুনিয়া ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট আবু সাইদ,বালুচর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.আওলাদ হোসেন,বয়রাগাদী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমান সোহাগ,মালখানগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সানজিদা আক্তার,মধ্যপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের মো.করিম হাজী, ইছাপুরা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মো.সুমন মিয়া, জৈনসার ইউনিয়নে বিদ্রোহী রফিকুল ইসলাম দুদু এবং কোলা ইউনিয়নে বিকল্প ধারা সমর্থিত প্রাথী সাইফুল ইসলাম মিন্টু ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোট গ্রহন হয়েছে। একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ব্যতিত কোথাও কোনো আর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। এই নির্বাচনে জনগনের সন্তুষ্টি নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।