শুক্রবার এলেই তারা হয়ে যান পরিচ্ছন্নকর্মী

220
শামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জঃ তারা পেশায় কেউ ছাত্র,কেউ ছোট ব্যাবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, কেউবা বেকার। তবে শুক্রবার এলেই তারা সবাই পরিচ্ছন্ন কর্মী। ছুটির এ দিনটিতে সবাই যেখানে ব্যাস্ত নিজেদের মত করে দিনটি উপভোগ করতে সেখানে তারা নিজেদের উদ্যোগে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই লেগে যান পরিচিত-অপরিচিত কোন কবস্তান পরিষ্কারের কাজে। জীবনের শেষ গন্তব্য কবরস্থানের কথা মনে হলেই ভয়ে যেখানে মন টা ছোট হয়ে আসে, সেখানে দিপু, সাজু, রিয়াজুল, আশিক, জামাল,ফজলুরা
 ঝোপঝাড়, শিয়াল-কুকুর আর সাপ-বিচ্ছুর ভয়কে উপেক্ষা করে একের পর এক  কবরস্থান পরিস্কার করে যাচ্ছেন।
শুরুর দিকে নিজেদের এলাকা অর্থাৎ  ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কবরস্থান ,পরে পাশের ইউনিয়ন, সর্বপরি  পুরো উপজেলা ব্যাপী শুরু করেছে তাদের এ পরিস্কার অভিযান।
কবরস্থান পরিস্কার করা ছাড়াও তারা কবর খোঁড়া, এতিমদের খাওয়ানো, জরুরি রক্তদান, গরীর-অসহায়দের চিকিৎসা, তাদের মেয়েদের বিয়ের খরচ বহন করা ছাড়াও নানা সামাজিক ও মানবিক কাজ করে থাকেন।
এব্যাপারে সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিতা মোঃ ইয়ার হোসাইন জানান, আমরা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে কথা হতো। কথায় কথায় আমার মাথায় চিন্তা আসে এমন কিছু করা যায় কিনা যা সাধারণত মানুষ করেনা। আর আমরা কয়েকজন আগে থেকেই কবর খোঁড়া ও পরিস্কারের কাজ করতাম। কিন্তু আমরা সংগঠিত হয়ে ‘দারিদ্র বিমোচন গ্রুপ’ বা ডিবিজি গ্রুপ নামে একটি সংগঠন করে আরো ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করেছি।
তিনি আরও জানান,সাধারণ আমরা অনেকেই অনেক ভালো কাজ করি কিন্তু কবরস্থান পরিস্কার করার উদ্যোগ কেউ নেই না। আমাদের আসল ঘরটা দিনের পর দিন অপরিস্কার থাকে কেউ খবর নেই না। সেখান থেকে আমারা পরিকল্পনা করি এবং সিদ্ধান্ত নেই আমরা কেরানীগঞ্জ এর প্রতিটি কবরস্থান পরিস্কার করবো।
 কিছু প্রবাসী ভাই,বন্ধু ও কাছের আত্মীয় স্বজন ছাড়াও কেরানীগঞ্জের পরিচিত মুখ  মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত ডাঃ হাবিবুর রহমান হাবিব স্যারের কাছ থেকে আমরা নানা বিষয়ে পরামর্শ ও সাহায্য পেয়ে থাকি। যে কোন কবরস্থান পরিস্কার করাতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা সেটি পরিস্কার করে দিবো।
ডিবিজি গ্রুপের সহ-সভাপতি  ইব্রাহিম হাওলাদার বলেব, আমরা শুধু কবরস্থান নয় সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করছি। এলাকার যে কোন সমস্যা সমাধানে বা সামাজিক কোন কাজে আমাদের সেচ্ছাসেবীরা সব সময় প্রথম সারিতে থাকে।  ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে যখন মানুষ বেহায়াপনায় লিপ্ত হচ্ছে সে সময় টা আমারা এতিম বাচ্চাদের সাথে কাটাই। তাদেরকে উন্নতমানের খাবারের পাশাপাশি তাদেরকে আমরা নতুন জামাকাপড় দিতে চেষ্টা করি। ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নয় আমরা এতিমদের খাবার দিবস হিসেবে পালন করি। ৫০ জন দিয়ে শুরু করে এবছর আমরা ৫শ এতিমকে খুশি করেছি।
তাদের এ কার্যক্রম নিয়ে কথা হয় সদস্যদের কয়েকজন অবিভাবকের সাথে, তারা জনান, প্রথম দিকে আমরা ভয়ে বাচ্চাদের কবরস্থান পরিস্কার করতে নিষেধ করতাম কিন্তু তারা শুনেনি। পরে ভাবি যাক ভালো কাজইতো করছে। তবে পুরানো আমলের দা, কাঁচি,কুড়ালের পরিবর্তে আধুনিক কিছু যন্ত্রপাতি থাকলে তাদের জন্য ভালো হতো, দ্রুত এবং নিরাপদে কাজ করতে পারতো।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানান, এমন মানবিক কাজের জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। তাদের মত যুবকরা আছে বলেই আমাদের সমাজ, আমাদের দেশটা এতো সুন্দর।  তাদের এমন ভালো কাজের অংশ হতে পারলে খুশি হবো। যে কোন প্রয়োজনে তাদের পাশো থাকবো ইনশাআল্লাহ।