নতুন সোনাকান্দা পশু হাটের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে এক টনি কালো মানিক

640

সামসুল ইসলাম সনেটঃ দু’দিন পরই কোরবানি ঈদ। তাই শেষ মুহুর্তে ব্যস্ত কৃষক, খামারি এবং ক্রেতারা। এবার কেরানীগঞ্জে ৬৫৬ টি খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৯ হাজার ৬২১ টি পশু যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩’শ কম। । অফ এবং অনলাইনে ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে গরুর বড় অংশ।

তবে এখনো বিক্রি হয়নি উপজেলার অন্যতম আকর্ষণ রোহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামের নুরুল ইসলাম এর এক টন ১৭ কেজী বা সাড়ে ২৭ মন ওজনের শাহীওয়াল জাতের কালো গরুটি।

সম্পুর্ন দেশিয় পদ্ধতিতে লালনপালন করা গরুটি বিক্রির জন্য উঠিয়েছেন স্থানীয় নতুন সোনাকান্দা গবাদি পশুর হাটে। দেশের বড় হাটগুলোতে যেখানে ২৫/২৬ মন ওজনের গরুর দাম হাঁকায় ১৫/২০ লাখ টাকা সেখানে এ মালিক গরুটির দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৮ লাখ টাকা। তবে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম উঠেছে সারে চার লাখ টাকা। গরুটির ক্রেতার সংখ্যা কম হলেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। অনেকেই দেখার পাশাপাশি ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে স্বজনদের দেখাতে। বিশাল দেহী গরুটি চলাচলে বেশ সাবলীল। কিছু সময় ছাড়া আসার পর থেকে দাড়িয়ে থাকতেই দেখা গেছে  বাজারের সেরা গরুটিকে।

 

এ ছাড়াও বাজারটিতে স্থানীয় এবং দেশের দূরদূরান্ত থেকে আগত খামারী,পাইকার ও কৃষকরা জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন সাইজের হাজারো গরু নিয়ে। ক্রেতার অপেক্ষায় শুয়ে বসে সময় পাড় করছে অনেকে। ১৮ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত দাম না মিলায় গরু ছাড়েনি অধিকাংশ মালিক। তাদের আশা আজ থেকে পুরোদমে শুরু হবে কেনা-বেচা।

এ নিয়ে সোমবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিককে খামারি নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে এতবড় গরু নিয়ে দূরের পশুর হাটে যাওয়া অনেক ঝামেলা। তাই স্থানীয় বাজারেই উঠিয়েছি। পত্রিকার শিরোনাম হতে নয় বিক্রির জন্যই গরুটি কম করে দাম চাচ্ছি। আলোচনা সাপেক্ষে এবার গরুটি ছেড়ে দিতে চাই।

বাজারটিতে সড়ক ও নদী পথে সমান সুযোগ সুবিধা থাকায় বিশাল দেহী কয়েক’শ গরুর পাশাপাশি উঠেছে দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার গরু। তাছাড়া কম হাসিল কম, সুন্দর থাকা খাওয়ার পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকায় নতুন হওয়া সত্যেও আলোচনায় নতুন সোনাকান্দা গবাদি পশুর হাটটি।

হাটের ইজারাদার হাজী মোঃ সেলিম জানান, করোনা মহামারি আমাদের হাটটি হতে পারে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়বিক্রয়, শতভাগ মাক্স পরিধান নিশ্চিত করা, নদী ও সড়ক থেকে যাতায়াতে সমান সুবিধা, থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা, ঝুঁকিহীন আর্থিক লেনদেনসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা রয়েছে হাটটিতে। সর্বপরি নামে মাত্র হাসিল আমাদের হাটটিকে অন্য যেকোন হাটের চেয়ে আলাদা করেছে। হাটটি চলবে ঈদের দিন পর্যন্ত।