কেরানীগঞ্জে লকডাউনে জমজমাট বিনোদন স্পট,৭৭ জনকে জেল-জরিমানা

1073

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে ৭৬ জনকে( ৩৬৬০০ টাকা) জরিমানা ও একজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৩ জুলাই (শুক্রবার) কেরানীগঞ্জ মডেল ও দক্ষিণ থানার পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দেবনাথ এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সকাল থেকেই মাঠে ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা পারভীন তিন্নি ও ইকবাল হাসান। এসময় তারা অযথা ঘর হতে বেড় হাওয়া, দোকান খোলা রাখা, মাক্স পরিধান না করাসহ নানা অপরাধে এ জেল জরিমানা প্রদান করে।

উপজেলা প্রশাসনের কঠোরতা সত্যেও কেরানীগঞ্জে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে প্রচুর জনসমাগম দেখা গেছে। মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গণপরিবহন দেখা না গেলেও অটোরিকশা, সিএনজিগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া লোকজন ফিরছেন রাজধানীতে। তাছাড়া ঈদের আমাজে ঘুরতে বেড় হওয়া মানুষের কারণে অনেকটা ঢিলেঢালা ভাবই দেখা গেছে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন।

প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের আবাস্থল কেরানীগঞ্জে সকালের দিকে লকডাউন পরিস্থিতি প্রশাসনের অনুকূলে থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তায় বেড়েছে লোক সমাগম। বিকেলে খোলা বিনোদন স্পটগুলোতে বাড়ে ঈদে ঘুরতে বেড় হওয়া মানুষের ব্যপক আনাগোনা। একপর্যায়ে বেশ কিছু স্থানে মানুষের উপস্থিতি অন্য সাধারণ দিনকেও হার মানায়।

রোহিতপুরের লাখিরচর-তুলশীখালী ব্রিজ, বিসিক শিল্পনগরী, কেরানীগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, হযরতপুরের ঢালিকান্দী, আলীপুর ব্রিজ, তারানগরের মধুসিটিসহ অনেক জায়গায় সাধারণ দিনের মত মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

সকাল থেকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কদমতলী,জিনজিরা,হাসনাবাদ, আব্দুল্লাহপুরেও কারণে অকারণে বাহিরে বেড় হয়েছে মানুষ। এ সময় অধিকাংশ মানুষের মুখে দেখা যায়নি মাক্স, ছিলোনা সামাজিক দুরত্বও। তাছাড়া দোকানিরা বিভিন্ন পন্থায় দোকান খোলা রাখায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মত। বহু রেস্টুরেন্ট খোলা ছিলো, পার্কেও ছিলো অসংখ্য মানুষ।

পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় রিকশা এবং সিএনজি করে বেড় হয়েছে অনেকে। কেউ কেউ আবার পায়ে হেঁটে গিয়েছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। তবে নদী পথে উচ্চস্বরে গানবাজনা আর অশ্লীল নৃত্য ছিলো অন্য যে কোন অনুষ্ঠানের মতই। নির্বিঘ্নে চলছে তাদের বেহায়াপনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেছেন, সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসন মাঠে ছিলো।জেল-জরিমানাও হয়েছে অনেক। জনসাধারণ সচেতন না হলে ভুগতে হবে কেরানীগঞ্জবাসিকে। তিনি স্থানীয়দের অযথা ঘর থেকে বেড় না হতে অনুরোধের পাশাপাশি সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে সকলের সহায়তা কামনা করেন।