কেরানীগঞ্জে নানা বাড়ীর দেয়াল ধসে নাতির মৃত্যু, দাদা বলছে খুন

317
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে দেয়াল ভেঙে পরে গিয়ে আবরার নামে ৯ মাসের একটি শিশু মারা আহত হলে চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়।
সোমবার ২২ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর আলী আজগর হাসপাতালে শিশুটি মৃত্যুবরন করে। ঘটনাটি ঘটেছে কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের কলাকান্দি এলাকায় আবরারের নানা বাড়িতে। তবে আবরারের দাদা আয়নাল আহমেদ এর দাবী এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
আবরারের চাচাত মামা রবিন ঘটনা সম্পর্কে জানায়, আবরারের বাবার নাম মো: পারভেজ ও মায়ের নাম সুপ্তি বেগম। আবরারের দাদা বাড়ি ঢাকার কদমতলী থানার দক্ষিন দনিয়া কুদার বাজার আদর্শ সড়ক এলাকায়। আবরারের বাবা বিদেশ (কাতার)থাকার কারনে গত তিনমাস ধরে আবরারের নানাবাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে কদমপুর কলাকান্দী বাসায় বসবাস করছিলো।
 গত ২১ নভেম্বর রবিবার বিকাল ৫ টার দিকে, আবরারকে নিয়ে ছোট খালা বাড়ির (২য় তলা) ছাদে যায়। এসময় আবরারের মা ঘরে ছিলো। ছাদে উঠে আাবরারকে ছাদের আড়াই ফিট উচু বাউন্ডারি করা ওয়ালে বসালে আবরার দেয়াল থেকে পড়ে যায়, পরে ওয়াল ধসে আবরারের শরীরে পড়ে , এতে ইটের নিচে পড়ে চাপা খেয়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে শিশুটিকে ঢাকার আলী আজগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে  চিকিৎসারত অবস্থায় ২২ নভেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে সে মারা যায়। দেয়ালটি অনেক পুরাতন ছিল বলে টেম্পার ছিলো না, তাই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে আবরারের দাদা আয়নাল আহমেদ জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আড়াই ফিট ওয়াল থেকে পড়ে কেউ মারা যাওয়ার কথা নয়। আবরার এর দাদা আরো জানান,
আমার ছেলে পারভেজের সাথে সুপ্তির বিয়ে হয় বছর দুয়েক আগে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ওদের বনিবনা হচ্ছিল না। আমার ছেলে ৮ মাস আগে কাতার চলে যায়। পরে মেয়ে ওর বাবার বাড়িতে চলে যায়। ছেলের সাথে ঝগড়ার কারনে ও আমাদের বাসায় থাকতে চাইতো না। সম্পর্ক ছাড়াছাড়ির পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো। পরে বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য এবং বউ যেন আমাদের বাসায় আসে এ জণ্য আগামী ২/৩ দিন পর এলাকার মাদবরসহ কয়েকজনকে নিয়ে বসার কথা ছিলো। এর আগেই ওরা এমনটা করলো। আমি সুষ্ঠ বিচার চাই। আমার নাতিকে মেরে ফেলছে ওরা। ওয়াল থেকে পড়ার নাটক সাজিয়েছে। আবরারের দাদীর আয়শা বেগম বলেন, আমার আদরের ধন দাদু ভাইকে ওরা হত্যা করে নাটক সাজিয়ে ওয়াল থেকে পড়ার কাহিনী বানিয়েছে। আমি আমার দাদু আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
 এবিষয় দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার এসআই সজিব জানান, আজ দুপুরে আজগর আলী হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। রিপোর্ট হাতে পাবার পরে মৃত্যুর কারন জানা যাবে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনার বিষয় আমি শুনেছি আবরার এর দাদী আয়শা বেগম একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।