কেরানীগঞ্জে গণধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার

1137
শামসুল ইসলাম সনেটঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি গণধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামিকে গাজীপুর থেকে  গ্রেফতার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। ৩ এপ্রিল (শনিবার দিবাগত রাতে) কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোঃ আলামিন(২৫) ও কালাচান(৩৫) নামে এজহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। আটক আলামিন তারানগর ইউনিয়নের এমারগাও (জয়নগর পুকুর পাড়) এলাকার হাবুলের ছেলে এবং কালাচান একই এলাকার সামু মিয়ার ছেলে।
মামলার এজহার সূত্রে জানান যায় যে, গত ১১ আগস্ট  দুপুরে ধর্ষণের শিকার তরুনী(১৫) তার দুই বান্ধবি  বিথি ( ১৫ ), এশামনি ( ১৫ ) কে নিয়ে তাদের পুরান বাড়ী পশ্চিম এমারগাঁও গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে বিকাল অনুমান ৫ ঘটিকার সময় তারা মধুসিটি ফুডকোর্ডে বেড়ানো শেষে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সন্ধ্যা  অনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে সকলে নাহার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছা মাত্র ১ নং আসামী আল আমিন তাদের সবাইকে থামিয়ে  বিভিন্ন ধরনের কু – প্রস্তাব দেয় এবং তাহার বান্ধবিদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এসময় ভুক্তভোগী তরুনীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নাহার কমিউনিটি সেন্টারের পাশে  মধুসিটি আবাসিক প্রকল্পের একটি খালি প্লটের ভিতরে ঝোপঝাড়ের মধ্যে নিয়া যায় এবং অপর পূর্ব দুই আসামী কসাই জসিম ও কালাচাঁনকে মোবাইল ডেকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে  আসামীরা পালাক্রমে -জোর পূর্বক ধর্ষন করে এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইলে গোপন অঙ্গের ছবি ধারন করে । আসামীরা রাত অনুমান ৮ ঘটিকা পর্যন্ত ধর্ষণ ও মোবাইলে ছবি তোলা শেষে হুমকি দেয় এই কথা কাউকে না বলার জন্য । বাসায় গিয়ে সেই তরুণী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ঘটনার বিষয় বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।পরে মেয়ে পরিবার মেয়েকে নিয়া প্রথমে আটিবাজার পুলিশ ফাঁড়ী এবং পরের দিন অর্থাৎ ১২ আগস্ট  কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলা করে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ
 জনাব আবু ছালাম মিয়া পিপিএম জানান, গত ১২/০৮/২০২১ ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন ধমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) ৯(৩) ও পর্নোগ্রাফি আইনের ৮(১২)এর (মামলা নং- ১৯) এজাহারভুক্ত আসামি আল-আমিন(২৫) ও  কালাচান (৩৫) নামের দুই আসামিকে এস আই আবজালুল হকের নেতৃত্বে মডেল থানার একটি চৌকস দল গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয়। বাকি আসামিকেও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আটক আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে। এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।