কথিত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পা হারালো ১৭ দিনের শিশু

27
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় এক গ্রাম্য ডাক্তার কাম কবিরাজের ভূল চিকিৎসায় ১৭দিনের এক শিশুর পা কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি অনিক গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কলাকান্দি গ্রামের আবুল বাশার ও সীমা দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পর থেকে শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করতো বলে জানান শিশুর মা সীমা বেগম। তাই কান্না কমাতে জন্মের ছয় দিন পর আব্দুল্লাহপুর বাজারের স্বর্ণা ফার্মেসির মালিক কথিত চিকিৎসক ও কবিরাজ দেব কিশোর সরকারের কাছে নিয়ে গেলে ওই চিকিৎসক শিশুকে ঝাড়-ফুকের পাশাপাশি ডান পায়ে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এতে শিশুর কান্না আরও বেড়ে যায়। পরদিন একই কাজ করেন ওই চিকিসক।
দুইদিন পরে অবস্থার বেগতিক দেখে শিশুর পরিবার ও সেই কথিত ডাক্তার মিলে শিশুটিকে গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতাল হয়ে শ্যামলী স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে দুদিন রাখার পরে অবস্থার ব্যাপক অবনতি হলে শিশুটিকে ধানমন্ডির মাদার কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখেন অবুঝ শিশুটির পায়ে পঁচন ধরেছে, দ্রুত পা কাটা না হলে আরও বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিশু অনিকের ডান পায়ে হাটুর নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়।

শিশুর মা সীমা জানান, ভন্ড ডাক্তারের কারণে আমার সোনা মানিকের পা হারালাম। তার দেওয়া ইনজেকশনই কাল হলো আমার। ডাক্তার ঝাড়ফুঁকে সাথে দুটি ইনজেকশন দিলে আমার ছেলের পায়ের নিচের অংশ কালো হয়ে যায়। এব্যাপারে তাকে বললে প্রথমে সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, পরে অন্য মানুষের সহায়তায় সে উন্নত চিকিৎসার দায়দায়িত্ব নিলেও আমার ছেলের পা বাঁচানো গেলোনা।

গ্রাম্য ডাক্তার দেব কিশোর নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিলেও মূলত সে ফার্মেসীতে তাবিজ-কবচের পাশাপাশি কিছু ঔষধও বিক্রি করেন। তিনি জানান তার ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা। তার বাবাও গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। তার ইনজেকশনের কারণে এমন হয়নি বলে দাবি তার।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড়াঃ মশিউর রহমান জানান, আমরা নিয়মিত এসব হাতুরে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে এ্যাকশন নিচ্ছি। এব্যাপারে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(কেরানীগঞ্জ সার্কেলে) শাহাবুদ্দিন কবির জানান, ‘শিশুটির পা হারানোর খুবই দুঃখজনক একটি ব্যাপার । পুলিশের পক্ষ হতে পরিবারটিকে সকল প্রকার সহায়তা কথা জানান তিনি। এ ঘটনায় শিশু অনিকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।